স্বাস্থ্য
১ মার্চ, ২০২৬

সাভারের মাশরুম বাজার: পুষ্টি ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

সাভারের মাশরুম বাজার: পুষ্টি ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

রাজধানীর অদূরে সাভারে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ মাশরুমের পাইকারি বাজার, যা দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মূল ফটকের কাছে সপ্তাহের সাত দিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই জমজমাট বেচাকেনা।

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে চাষিরা সরাসরি অথবা নিয়মিত পরিবহনের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত মাশরুম এই বাজারে নিয়ে আসেন। বড় বড় রেস্টুরেন্ট, পাঁচতারকা হোটেল এবং বিভিন্ন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান এখান থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় মাশরুম সংগ্রহ করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় মাসের চুক্তিতেও মাশরুম সরবরাহ করা হয়, যা এই বাজারের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

একসময় ‘ব্যাঙের ছাতা’ বলে অবহেলিত মাশরুমের চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে দেশে মাশরুম চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে প্রায় দেড় লাখ মানুষ জড়িত, যা তাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে।

এই বাজারে বাটন, ঋষি, গোল্ডেন ওয়েস্টার, কান, মানকিহেড, শীতাকি, মিল্কি প্রজাতিসহ নানা ধরনের তাজা মাশরুম পাওয়া যায়। এছাড়াও, মাশরুমের পাউডার, স্যুপ, শক্তিবর্ধক ওষুধ, হার্টের উপকারি উপাদান, সাবানসহ বিভিন্ন বাই-প্রোডাক্টও বিক্রি হচ্ছে। অনেকে মাশরুম দিয়ে কেক, সাসলিক, কাটলেট, ফ্রাই, ভর্তা, স্যুপ, রোল, নুডুলস, সালাদ এমনকি পিঠা-পুলি, হালুয়া, চা ও কফি তৈরি করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন।

সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত দেশের একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সাভারেই অবস্থিত, যার অধীনে রয়েছে ৩৪টি সাব-সেন্টার। এই ইনস্টিটিউটের পরিচালক কৃষিবিদ ড. আখতার জাহান কাকন জানান, বর্তমানে দেশে ছয় শতাধিক উদ্যোক্তা ও এক হাজার ৮ শতাধিক চাষি সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মাশরুম উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৮০০ থেকে ৮৫০ কোটি টাকা।

মাশরুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য, যাতে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ প্রোটিন থাকে। এছাড়া ভিটামিন ডি, মিনারেল, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি একটি পুষ্টিকর সবজি হিসেবে ব্যাপক সম্ভাবনাময়। দেশের চাহিদা পূরণ করে অচিরেই বড় পরিসরে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। সাভারের এই মাশরুম বাজার শুধু একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, এটি পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।