রাজনীতি
৪ জুন, ২০২৬

সংসদ সদস্যের বেতন-ভাতা দিয়ে তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দায়িত্ব নিলেন জামায়াত নেতা ড. মাসুদ

সংসদ সদস্যের বেতন-ভাতা দিয়ে তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের দায়িত্ব নিলেন জামায়াত নেতা ড. মাসুদ

নিজের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা দান করে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিবন্ধী তিন ভাইয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা পোস্টের মাধ্যমে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, তার নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-২ (বাউফল) এর ধুলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠি গ্রামের প্রতিবন্ধী তিন ভাই রিপন দাস, সাধু দাস এবং নিধু দাসের পরিবারের জন্য তার সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত এক মাসের বেতন-ভাতা তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, তাদের বাসস্থানের পুনর্নির্মাণ এবং নিয়মিত খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না স্বরূপ। সাংবাদিকদের লেখালেখি এবং ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে এই প্রতিবন্ধী তিন ভাইয়ের অসহনীয় জীবনযাত্রার বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন। ফলস্বরূপ, তিনি নিজের এক মাসের বেতন-ভাতার সমতুল্য অর্থ তাদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি, তাদের বাড়ির পুনঃনির্মাণ এবং নিয়মিত আহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যদিও রাষ্ট্র খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসার মতো নাগরিকদের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিধান রেখেছে, তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা পূরণ হয়নি। তার মতে, একটি স্বাধীন দেশে এখনও জাতীয়তাবাদের নামে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আইনের ধারাবাহিকতা বিদ্যমান। মানুষের দ্বারা প্রণীত আইন সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে না; বরং যারা আইন তৈরি করেন, অথবা যারা ক্ষমতায় আছেন, তারাই বেশি সুবিধা ভোগ করেন।

তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকার নিজেদের সুবিধার জন্য আইন তৈরি করে এবং সংবিধান সংশোধন করে। কোনো সরকারই সংবিধান সংস্কার করেনি। বিএনপি নির্বাচনের পূর্বে তাদের দেওয়া ৩১ দফা অঙ্গীকারে সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর জানায় যে, সংবিধান সংস্কার করা সম্ভব নয়, বরং এটি সংশোধন করতে হবে! বিএনপির এমন দ্বিমুখী নীতি সরাসরি জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

জনগণের সঙ্গে কোনো প্রকার প্রতারণা বা ছলনা না করে, নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ড. মাসুদ এমপি বলেন, যদি একটি ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে রাষ্ট্র কর্তৃক মানুষের মৌলিক অধিকার শতভাগ নিশ্চিত হবে। তাই সমাজের প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইসলামি সমাজ বিনির্মাণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য তিনি আহ্বান জানান। #জামায়াত #ডঃশফিকুলইসলামমাসুদ #প্রতিবন্ধীসহায়তা #মানবতা #জনকল্যাণ