সরকারি ধান সংগ্রহে সিন্ডিকেট: কৃষকের দুর্ভোগ এবং উত্তরণের উপায় শীর্ষক সেমিনারে এনসিপির বক্তব্য

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ মন্তব্য করেছেন যে, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরা সরকারি নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং টিকে থাকতে পারছেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি এখন সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সাথে জড়িত।
বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার: সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। এই সেমিনারটি এনসিপির কৃষি সেল কর্তৃক আয়োজিত হয়েছিল।
ড. আতিক মুজাহিদ আরও বলেন যে, কৃষিখাত নিয়ে আলোচনায় বর্তমানে শুধুমাত্র ধান নিয়েই কথা হচ্ছে, কিন্তু আলুর মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলটিও কৃষিতে একটি বড় ভূমিকা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য মূল্য না পেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ রাস্তায় আলু ফেলে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অনেক কৃষককে হতাশ করে তুলেছে, এমনকি আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, একদিকে কৃষকদের ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সরকার ‘টিকটকার’ কৃষকদের কৃষি কার্ড দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, সরকারের উচিত ছিল হারভেস্টার এবং ধান শুকানোর প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলোতে সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, বিপুল সংখ্যক খাদ্য কর্মকর্তা এবং কৃষি কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তারা কী ভূমিকা পালন করছেন।
সারোয়ার তুষার আরও পরামর্শ দেন যে, কৃষি কার্ড সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করে একটি কৃষি বীমা ব্যবস্থা চালু করা উচিত। মিল মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা উচিত। তিনি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিকিৎসার বিষয়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, সরকারকেও কৃষকদের প্রয়োজনে তাদের দোরগোড়ায় যেতে হবে। তিনি আরও বলেন যে, ফসলের দাম পূর্বেই নির্ধারণ করা উচিত, যাতে কৃষকরা দর কষাকষির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। সরকার কর্তৃক ধান কম কিনে চাল বেশি কেনার নীতি থেকেও সরে আসা প্রয়োজন।
সারোয়ার তুষার যোগ করেন যে, সরকার কৃষকদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হচ্ছে, বরং সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তিনি স্বীকার করেন যে, এই বারের কৃষকদের সংকট মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট, তবে তিনি মনে করেন সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পারত, যেখানে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, হাওরের কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ থেকে বৈশাখের শুরুতেই ফসল ঘরে তোলেন। কিন্তু বর্তমান ৩০ বৈশাখ পেরিয়ে গেলেও অনেক কৃষক এখনও ফসল তুলতে পারেননি। তিনি এর জন্য বীজ বিতরণ ও বিপণনের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও বিলম্বকে দায়ী করেন এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের আহ্বায়ক ডা. শাদরুল আলম বলেন, আসন্ন বাজেটে কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা কীভাবে করা যায়, তা খতিয়ে দেখা উচিত এবং এই ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
#কৃষক #ধান #সরকারি_ক্রয় #এনসিপি #কৃষি_সংকট