প্রযুক্তি
১০ জুন, ২০২৬

তালাক না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে: ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার মামলার রায় আজ

তালাক না দিয়ে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে: ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার মামলার রায় আজ

তালাক না দিয়ে অন্য পুরুষের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামীকাল বুধবার (১২ জুন) ঘোষণা করা হবে। ঢাকার অতিরিক্ত প্রধান মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় প্রদান করবেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, যদি নাসির হোসেন দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে দণ্ডবিধির দুটি ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। অন্যদিকে, তামিমা সুলতানা দোষী প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির তিনটি ধারায় সর্বোচ্চ ২১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এর পূর্বে গত ৬ মে উভয় পক্ষ আদালতে তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করে। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন যে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। অপরদিকে, নাসির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমা সুলতানার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন যে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তারা খালাস পাওয়ার যোগ্য।

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১০ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। যুক্তিতর্ক চলাকালীন সময়ে নাসির হোসেন এবং তামিমা সুলতানা উভয়ই আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি অনুসারে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সাথে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়েছিল। এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাকিব হাসানের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থাতেই তামিমা সুলতানা ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।

২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিব হাসানের নজরে আসে। এরপর, একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে, ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

পরবর্তীতে, ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির হোসেন এবং তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন এবং বিচারকার্যক্রম শুরু করার আদেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেছিল, যা ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত নাকচ করে দেয়। এর ফলে, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে আর কোনো আইনি বাধা থাকেনি।

মামলার বিচারকার্যক্রম ২০২৩ সালের ২০ মার্চ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয় ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল। বিচার চলাকালে আদালত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ১০ মার্চ আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নাসির হোসেন এবং তামিমা সুলতানা উভয়েই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। #Naser #Tamima #DivorceLaw #BangladeshCourt