তেলের বাজারের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ল আমিরাতের ওপেক ত্যাগ: সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্বের নতুন অধ্যায়

গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন এই পদক্ষেপের প্রভাব তেলের বাজারের বাইরেও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের একসময়ের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব ভেঙে গিয়ে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত।
ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবই ছিল তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য। সৌদি আরব তাদের বিশাল উৎপাদনক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী তেলের দামকে প্রভাবিত করেছে। তাই এই সংস্থা থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করা হতো।
সৌদি ও আমিরাতের নেতাদের মধ্যে এই মতপার্থক্য রাতারাতি ঘটেনি।
এক দশক আগে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে আদর্শগতভাবে অভিন্ন মিত্র হিসেবে দেখা হতো। আরব বসন্তের জোয়ারকে তারা তাদের শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতেন। এই অঞ্চলটিকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উভয়েই ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, দৃঢ়চেতা এবং একমত।
একসঙ্গে তারা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগে তারা পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যও যৌথভাবে পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা কাতার অস্বীকার করে। তারা তাদের অভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
আজ সেই সম্পর্কটি অনেকটাই ভিন্ন। দেশ দুটি আঞ্চলিক যুদ্ধে ক্রমশই পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছে, পরস্পরবিরোধী জ্বালানি কৌশল অনুসরণ করছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।
তেল ও অর্থনীতি নিয়ে সংঘাত
কয়েক দশক ধরে, আমিরাতের দুবাই শহর মধ্যপ্রাচ্যের অর্থায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোর প্রধান কেন্দ্র ছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে, সৌদি আরবকে ব্যবসা ও পর্যটনের এক শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করতে যুবরাজ মোহাম্মদের ব্যাপক পরিকল্পনা দেশটিকে ক্রমশ আমিরাতের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়েছে।
সৌদি কর্মকর্তারা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুস্পষ্ট করে তোলেন একটি ঘোষণার মাধ্যমে। তারা সরকারের সঙ্গে লাভজনক চুক্তি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রাজধানী রিয়াদে আঞ্চলিক সদর দপ্তর স্থাপন করতে বাধ্য করেন। গত বছরের মার্চ মাসে সৌদি কর্মকর্তারা জানান যে, ৬০০-র বেশি সংস্থা রিয়াদে আঞ্চলিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
আমিরাতের কর্মকর্তাদের কাছে বার্তাটি ছিল সুস্পষ্ট: সৌদি আরব আর তেল সম্পদ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভর করে সন্তুষ্ট নয়, বরং তারা সরাসরি তাদের অর্থনৈতিক ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে।
উভয় দেশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৈশ্বিক অবকাঠামোর মতো উদীয়মান খাতগুলোতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে এবং প্রায়শই একই বিনিয়োগকারী ও বাজারকে লক্ষ্য করছে।
যদিও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ওপেকে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধি করেছে এবং বিকল্প জোটের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ওপেক থেকে আমিরাতের এই প্রস্থান তাদের আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক মঞ্চে স্বাধীনভাবে কাজ করার ইচ্ছার প্রতিফলন।
#ওপেক #সংযুক্তআরবআমিরাত #সৌদিআরব #তেলবাজার #ভূরাজনৈতিক