International
১৭ মে, ২০২৬

থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম ডাইনোসর 'নাগাটাইটান'

থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম ডাইনোসর 'নাগাটাইটান'

বিজ্ঞানীরা থাইল্যান্ডে মাটি খুঁড়ে পাওয়া এক বিশাল আকৃতির ও লম্বা গলার নতুন প্রজাতির ডাইনোসর শনাক্ত করেছেন। এর নামকরণ করা হয়েছে 'নাগাটাইটান'। এই আবিষ্কারটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসরের নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নাগাটাইটান প্রজাতিটি প্রায় ২৭ টন ওজনের ছিল, যা নয়টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির সম্মিলিত ওজনের সমান। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার (৮৮ ফুট), যা ডিপ্লোডোকাস নামক অন্য এক বিশাল ডাইনোসরের চেয়েও বেশি। ডিপ্লোডোকাসের মতো নাগাটাইটানও ছিল লম্বা গলার তৃণভোজী 'সরোপড' পরিবারের সদস্য।

প্রায় এক দশক আগে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি পুকুরের পাশ থেকে এই জীবাশ্মগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য এবং থাইল্যান্ডের একদল গবেষক এই জীবাশ্মগুলো বিশ্লেষণ করে এই নতুন প্রজাতিটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি প্রাচীন জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে কীভাবে এত বিশাল আকৃতির ডাইনোসরগুলোর বিকাশ ঘটেছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে।

এই ডাইনোসরটির পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক নাম হলো 'নাগাটাইটান চ্যায়াফুমেনসিস'। এর নামকরণের পেছনে রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোককাহিনীতে 'নাগা' শব্দের অর্থ হলো সাপ, আর গ্রিক পুরাণে 'টাইটান' বলতে দেবতাদের বোঝানো হয়। অপরদিকে, 'চ্যায়াফুমেনসিস' অংশটি এসেছে মূলত যে প্রদেশে জীবাশ্মগুলো পাওয়া গেছে, সেই প্রদেশের নাম 'চ্যায়াফুম' থেকে।

নাগাটাইটান ১০০ থেকে ১২০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। এটি বিখ্যাত টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের চেয়েও প্রায় ৪০ মিলিয়ন বছর আগের একটি প্রজাতি। আকারে এটি টি-রেক্সের প্রায় দ্বিগুণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই গবেষণাটি বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস'-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ছিলেন থিতিওত সেথাপানিসাকুল, যিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) একজন থাই পিএইচডি গবেষক।

সেথাপানিসাকুল উল্লেখ করেছেন যে, গবেষকরা নাগাটাইটানকে থাইল্যান্ডের 'শেষ টাইটান' বা শেষ দৈত্যাকার ডাইনোসর হিসেবে বিবেচনা করছেন। এর কারণ হলো, থাইল্যান্ডে ডাইনোসর বহনকারী শিলাস্তরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে নবীন শিলাস্তরে পাওয়া গেছে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, 'ডাইনোসর যুগের শেষ দিকে গঠিত নবীন শিলাস্তরে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ওই সময়ে অঞ্চলটি একটি অগভীর সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। তাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আমরা সম্ভবত শেষ বা সবচেয়ে আধুনিক বিশাল সরোপডটিই খুঁজে পেয়েছি।'

নিজেকে 'ডাইনোসর কিড' বা ডাইনোসরপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দেওয়া সেথাপানিসাকুল ইউসিএল-এর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন যে, এই গবেষণা তার 'একটি ডাইনোসরের নামকরণের শৈশবের স্বপ্ন পূরণেও সহায়তা করেছে'।

নাগাটাইটান হলো থাইল্যান্ডে নামকরণ করা ১৪তম ডাইনোসর প্রজাতি। মহাসারখাম ইউনিভার্সিটির জীবাশ্মবিদ ড. সীতা মানিতকুন জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডে ডাইনোসরের জীবাশ্মের একটি বিশাল বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। তিনি আরও যোগ করেন যে, ডাইনোসরের দেহাবশেষ প্রাপ্তির নিরিখে এশিয়া মহাদেশে থাইল্যান্ড 'সম্ভবত তৃতীয় সর্বোচ্চ সমৃদ্ধ দেশ'।

#নাগাটাইটান #ডাইনোসর #থাইল্যান্ড #জীবাশ্ম #সরোপড