তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা : সম্ভাবনা ও বাস্তবতা

বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরের পর বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে ড্রোন, ট্যাংক এবং বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশ কয়েক বছর আগেই তুরস্কের একটি ড্রোন প্রস্তুতকারক কোম্পানির সঙ্গে ড্রোন সংগ্রহের জন্য একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান তার তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যদিও তার এই সফরকালে সামরিক বা প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, তবে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান উল্লেখ করা হয়নি। তবে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার বিষয়টি উত্থাপন করেন। প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, ১৯৯৯ সালে তুরস্ক বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ ছিল, যা পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিশ্বের ১৪তম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। দেশটি বর্তমানে শীর্ষ দশ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে স্থান করে নিতে আগ্রহী।
ঢাকাতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সামরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে, বাংলাদেশ তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন বা উন্নয়নে তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে, ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে তুরস্কের সহযোগিতা নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এর ধারাবাহিকতায়, ২০২২ সালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ড্রোন সংগ্রহের জন্য তুরস্কের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এই প্রেক্ষাপটে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরকালে সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাতে তুরস্ক নির্মিত ড্রোন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। একই সঙ্গে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশটির অগ্রগতি বাংলাদেশকে প্রতিরক্ষা উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাজার বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
#প্রতিরক্ষাশিল্প #তুরস্ক_বাংলাদেশ #সামরিক_সহযোগিতা #ড্রোন #বাংলাদেশ