National
২৩ মে, ২০২৬

ভারী বর্ষণে ভেঙে গেল জিনজিরাম ও সোনাভরি নদীর সেতু, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ভারী বর্ষণে ভেঙে গেল জিনজিরাম ও সোনাভরি নদীর সেতু, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলের তোড়ে রাজিবপুর উপজেলার জিনজিরাম নদীর ওপর নির্মিত বালিয়ামারির বাঁশের সাঁকো এবং সোনাভরি নদীর ওপর স্থাপিত কাঠের সেতুটি ভেঙে গেছে। এর ফলে দুটি উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার অধিবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে, যখন পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা সেতু দুটিতে আটকে গিয়ে সেগুলোকে ভেঙে ফেলে। জানা যায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষ জিনজিরাম ও সোনাভরি নদীতে ছোট নৌকা ব্যবহার করে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও কোনো সেতু নির্মিত না হওয়ায়, স্থানীয়রা জিনজিরাম নদীর ওপর নিজেরাই একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছিলেন। অন্যদিকে, গত বছর সরকার সোনাভরি নদীর ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে দেয়, যা জনসাধারণের যাতায়াতে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। তবে, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের কারণে সেতু দুটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আবার শুরু হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রায়।

বিশেষ করে, কোদালকাঠি এবং রাজিবপুরের সংযোগ সড়কের ওপর সোনাভরি নদীতে নির্মিত কাঠের সেতুটি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির কারণে ভেসে আসা কচুরিপানার চাপে ভেঙে গেছে। এই সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কোদালকাঠি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা যাতায়াতের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। তাদের জীবনের প্রধান সংযোগ পথটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কোদালকাঠি ইউনিয়নের চর সাজাই গ্রামের আমিনুর রহমান মাস্টার বলেন, বহু আলাপ-আলোচনার পর সোনাভরি নদীর ওপর এই কাঠের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু আকস্মিকভাবে সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি।

পাখিরা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সামনেই পবিত্র ঈদ। এই সময়ে আমাদের এলাকার হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটার জন্য রাজিবপুর উপজেলা সদরে আসেন। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার কারণে তাদের যাতায়াতে প্রচুর অসুবিধা হচ্ছে। তিনি অতিসত্বর সেতুটি মেরামত করার জন্য জোর দাবি জানান, যাতে এলাকাবাসী সহজে চলাচল করতে পারে।

রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরন মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, জিনজিরাম ও সোনাভরি নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো এবং কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিনি অবিলম্বে সেতু দুটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

#Rajibpur #Upazila #Bridge #River #Flooding #Rain #Disaster #Community #Infrastructure #Bangladesh