ভোলার দৌলতখানে স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

ভোলার দৌলতখানায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের ৩নং ওয়ার্ডে সংঘটিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ফিমা, যিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন, তার স্বামী সজীবের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ছিলেন। তবে, এই বিষয়ে প্রতিবেশী মজনু মিস্ত্রির পরিবারের কেউ বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি। ওই এলাকার বাসিন্দা মাহে আলম এবং ইউসুফ জানান যে, সজীব তার বাসার সামনে একটি দোকান চালাতেন। ঘটনার রাতে, অর্থাৎ রাত ১০টার দিকে তারা বাড়ি ফেরার পথে দোকানের কাছে ফিমাকে দেখেছিলেন। তাদের ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার পারিবারিক কলহের জেরেই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটেছে।
সজীবের সঙ্গে কোরবানির ঈদে গরু কোরবানি করার অংশীদার ছিলেন ফারুক মিয়া। তিনি জানান, খবর পেয়ে তিনি ভোর ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দেখতে পান যে বাড়িতে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, সজীবের স্ত্রী ঘরের ভিতরে মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন। ফারুক মিয়া আরও বলেন, তিনি শুনেছেন যে সজীব তার মাকে মাত্র ১০ টাকা দামের এক প্যাকেট বিস্কুট দেওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ঝগড়া ও দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল, যা এই পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
নিহত ফিমা বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন ইউপি সদস্য আবুল কালাম বর্দারের কন্যা ছিলেন। ফিমা'র বড় ভাই রিপন অভিযোগ করেছেন যে, তার বোনকে নির্মমভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী সজীবকে তার বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত ফিমা'র লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
দৌলতখান থানার ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র দাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ভোলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।
#ভোলা #দৌলতখান #স্ত্রীহত্যা #নারী নির্যাতন #পারিবারিককলহ