National
২৫ ফেব, ২০২৬

যমুনার ভাঙনে চৌহালীর শতকোটি টাকার বাঁধ হুমকির মুখে: বাল্কহেড বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

যমুনার ভাঙনে চৌহালীর শতকোটি টাকার বাঁধ হুমকির মুখে: বাল্কহেড বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলের কারণে পূর্ব তীররক্ষা বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় এই ভাঙন ঘটছে, যা শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীররক্ষা বাঁধকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ২০১৬ সালে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড ১০৭ কোটি টাকা খরচ করে এই বাঁধটি নির্মাণ করেছিল।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনা নদী দিয়ে রাতদিন বালুবাহী বাল্কহেড চলাচলই নদীভাঙনের প্রধান কারণ। এর ফলে প্রায় পাঁচ শতাধিক বসতি, ফসলি জমি, উপজেলা পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ এবং হাট-বাজারসহ সমগ্র উপজেলা সদর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এমনকি বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাইপুকুরিয়া পশ্চিমপাড়া থেকে ভূতের মোড় পর্যন্ত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা এলাকাতেও বাল্কহেড চলাচলের কারণে জিও ব্যাগ ধসে যাচ্ছে, যা বাঘুটিয়া ও খাসপুকুরিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামকে বিপদে ফেলছে।

 

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার জানান, বালুমহলের শত শত বাল্কহেডের অবাধ চলাচলই নদীভাঙনের মূল কারণ। এলাকাবাসী দফায় দফায় বিক্ষোভ করে বাল্কহেড চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

 

এদিকে, চৌহালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিউর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাসিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করেছেন। কিছু বাল্কহেড নাব্যতা সংকটের কারণে আটকে থাকলেও নতুন করে আর কোনো বাল্কহেড চলবে না বলে জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে অবশিষ্ট এলাকা রক্ষা পাবে।