প্রযুক্তি
২১ এপ্রি, ২০২৬

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬: বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬: বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই আইনটি মূলত দেশের ব্যাংকিং কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকদের মতে, এই আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো—সংকটে পড়া বা মার্জ হওয়া ব্যাংকের প্রাক্তন মালিকদের নির্দিষ্ট শর্তে আবার মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ দেওয়া। যাদের বিরুদ্ধে অতীতে ব্যাংক লুট, অনিয়ম এবং ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল, তারাই আবার ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে ফিরতে পারবে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আলোচিত এস আলম গ্রুপের মতো গোষ্ঠীর ব্যাংক খাতে প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে, যার মধ্যে ঋণ অনিয়ম, ব্যাংক দখল এবং অর্থ পাচারের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত। আইনটির সমর্থকরা এটিকে ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল রাখা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার একটি ‘ব্যবহারিক সমাধান’ হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকরা এটিকে বিপজ্জনক নীতি পরিবর্তন বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে শাস্তির পরিবর্তে ‘আবার প্রবেশাধিকার’ দেওয়া হচ্ছে। নীতিগতভাবে, আগের অর্ডিন্যান্সে ব্যাংক ধ্বংসের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের মালিকানা থেকে স্থায়ীভাবে দূরে রাখার বিধান ছিল, কিন্তু নতুন আইনে তা শিথিল করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই আইন বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও অনিয়মকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যখন নীতি এমনভাবে তৈরি হয় যেখানে বড় ঋণখেলাপি বা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো আবার ব্যাংক দখলের সুযোগ পায়, তখন ব্যাংক খাত ‘নিয়ম দ্বারা নয়, প্রভাব দ্বারা পরিচালিত’ ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে। এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি করছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-সহ বিভিন্ন সংস্থা এই আইনকে ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ আরো গভীর করার ঝুঁকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। যদি শক্ত জবাবদিহির বদলে ‘পুনর্বাসনভিত্তিক সমঝোতা’ প্রাধান্য পায়, তবে বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

#ব্যাংকখাত #বাংলাদেশ #ব্যাংকরেজল্যুশনআইন #অর্থনীতি #টিআইবি