Chattogram
২৩ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের ডিসি পার্ক ও গুলিয়াখালী সি-বিচ: পর্যটনে নতুন দিগন্তের উন্মোচন

চট্টগ্রামের ডিসি পার্ক ও গুলিয়াখালী সি-বিচ: পর্যটনে নতুন দিগন্তের উন্মোচন

চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ডিসি পার্ক এবং গুলিয়াখালী সি-বিচ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের সমন্বয়ে এই দুটি পর্যটন কেন্দ্র ইতোমধ্যেই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গুলিয়াখালী সি-বিচের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাংলাদেশের অন্যান্য বালুকাময় সৈকত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে সুবিশাল জলরাশি, অন্যদিকে কেওড়া বন এবং এর মাঝে বিস্তৃত সবুজ ঘাসের গালিচা – এ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক অপরূপ দৃশ্য। আঁকাবাঁকা ছোট ছোট খালগুলো জোয়ারের পানিতে পূর্ণ হয়ে এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা করে। জোয়ারের সময় পানির স্রোত ও বাতাসের শব্দ মিলেমিশে সৈকতজুড়ে এক শান্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনেক পর্যটক এটিকে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ম্যানগ্রোভ বনের সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি হিসেবেও বর্ণনা করেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গুলিয়াখালী সৈকতের ২৫৯.১ একর খাস জমিকে সংরক্ষিত পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এই এলাকাটিকে বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করার প্রচেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে গুলিয়াখালী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

অন্যদিকে, সীতাকুণ্ডের ডিসি পার্কেও ব্যাপক সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলতি মে মাস জুড়ে ১০ হাজারের বেশি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। পার্কের সর্বত্র মোট ৫৪ প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে, যার মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, রাধাচূড়া এবং বিভিন্ন ধরনের ফলদ ও বনজ গাছ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আশা করা হচ্ছে, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা এবং সোনালুর হলুদ ফুলে পার্কটি এক অনন্য নান্দনিক রূপ ধারণ করবে।

ডিসি পার্ককে আধুনিক ও দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি উন্নত সেচ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পার্কে মৌসুমি ফুল ও ছায়াবৃক্ষ রোপণের ফলে দর্শনার্থীরা সারা বছর ধরে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপ উপভোগ করতে পারবেন। পরিবার নিয়ে অবকাশ যাপন, শিশুদের বিনোদন এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হয়ে উঠছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে চট্টগ্রামে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নগর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

#চট্টগ্রাম #পর্যটন #প্রকৃতি #পরিবেশ #বাংলাদেশ #DCPark #GuliakhaliSeaBeach