হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি: শিশুদের জীবন রক্ষায় টিকার গুরুত্ব ও করণীয়

সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বাংলাদেশে হামের (মিজেলস) প্রাদুর্ভাব এবং শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ার উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রায় ৪৪% শিশুর টিকার বাইরে থাকা এবং টিকা কাভারেজ কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ, যা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি করে ভাইরাস দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করছে।
এক ডোজ মিজেলস টিকা প্রায় ৯৩% সুরক্ষা দেয়, আর দুই ডোজ দিলে তা ৯৭% পর্যন্ত পৌঁছায়। তবে, কিছু শিশু টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হতে পারে, যার পেছনে রয়েছে অসম্পূর্ণ টিকা, কম বয়সে সংক্রমণ, অপুষ্টি, কোল্ড চেইন সমস্যা এবং টিকা না নেওয়া জনগোষ্ঠীর আধিক্য। হাম কেবল জ্বর-র্যাশ নয়, এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, অন্ধত্ব এবং মস্তিষ্কের জটিলতা (SSPE) সহ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা ডেকে আনতে পারে।
বর্তমানে, সরকার ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অতিরিক্ত একটি হামের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং ইপিআই কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকাদান শুরু করেছে। তবে, শিশুদের ৯ মাস বয়সে ১ম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে ২য় ডোজ (MMR) টিকা নির্ধারিত নিয়মে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা, চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন এ সাপোর্ট দেওয়া এবং জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, হাম কোনও সাধারণ রোগ নয়; এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং এর একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধ হলো সময়মতো দুই ডোজ টিকা গ্রহণ। লক্ষ্য হলো ৯৫% টিকা কাভারেজ অর্জন করে শিশুদের হামের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা।
#হাম #মিজেলস #টিকা #শিশুস্বাস্থ্য #বাংলাদেশ