National
১০ এপ্রি, ২০২৬

হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা ও পরিবহনে জ্বালানি সংকট: কৃষকদের উদ্বেগ

হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা ও পরিবহনে জ্বালানি সংকট: কৃষকদের উদ্বেগ

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা ও পরিবহনে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা ধান উৎপাদনের বাড়তি খরচ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ধান কাটা ও সংরক্ষণে বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলায় বোরো মৌসুমের শেষ দিকে ধান কাটার জন্য বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়। প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে কাটা ও মাড়াই করা হবে। এই তিন উপজেলায় মোট ৬৭ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬৪৫টি হারভেস্টার এবং ধান ও খড় পরিবহনে হাজার হাজার ট্রলি, ট্রাক, পিকআপ ও নৌকা-ট্রলার ব্যবহার করা হবে। এসব যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হবে।

 

কৃষকদের দাবি, সরকার যদি সঠিক দামে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করে, তাহলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় হাট-বাজার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে ডিজেল সরবরাহ অপ্রতুল। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল ও কেরোসিন সংগ্রহ করতে পারছেন না। সরকার নির্ধারিত দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

 

অষ্টগ্রামের কৃষক আবদুল হামিদ বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় ধান কাটা ও বাড়িতে নিতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। মিঠামইনের কৃষক কিরণ আহমেদ হাওরে সরকারিভাবে ডিজেল বিক্রির দাবি জানান। খুচরা ব্যবসায়ীরাও বিপাকে রয়েছেন, কারণ বেশি দামের কারণে তারা চাহিদার তুলনায় কম ডিজেল আনতে পারছেন। বৈশাখ মাসে চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেলে এই সরবরাহ দিয়ে তা মেটানো সম্ভব হবে না।

 

#জ্বালানি_সংকট #বোরো_ধান #হাওরাঞ্চল #কৃষক #ডিজেল_মূল্যবৃদ্ধি