কালনী নদীর ভাঙনে সুনামগঞ্জের শাল্লায় ২০ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ: বাড়িঘর সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন

সুনামগঞ্জের শাল্লায় কালনী নদীর তীরবর্তী প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার টুকচাঁনপুর থেকে শুরু করে প্রতাপপুর, ভেড়াডহর, মেধা, মুসাপুর বাজার হয়ে শাল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভাঙনের কবলে পড়েছেন নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ। অসংখ্য বাড়িঘর ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বেড়িবাঁধ, পুরোনো স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, টুকচাঁনপুর, ফয়জুল্লাহপুর, বিষ্ণুপুর এবং প্রতাপপুর গ্রামগুলোর একেবারে কাছে পৌঁছে গেছে নদীর ভাঙন। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা দিনরাত এই ভাঙনের সাথে লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। প্রতাপপুর বাজারের বেশিরভাগ দোকানপাট এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয়রা সরকারের কাছে নদী তীরে ব্লক বা ড্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউপি সদস্য এবং মার্কুলি গ্রামের বাসিন্দা সামিজুল মিয়া জানান, নদী ভাঙনের কারণে এই এলাকার মানুষ চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে প্রতি রাতে নির্ঘুম কাটাচ্ছেন। তিনি নদী ভাঙন রোধে সরকারের অবিলম্বে সহায়তা কামনা করেন। প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ দাস বলেন, গত দুই বছরে তাকে তিনটি ভিন্ন স্থানে তার দোকান সরাতে হয়েছে। নদী ভাঙনে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তিনি চোখের সামনে দেখেছেন কিভাবে তার দোকান নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে, কিন্তু কিছুই করার ছিল না। এই ভয়াবহ ভাঙনের ফলে অনেকে ভিটাবাড়ি হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তিনি এই এলাকাগুলোকে নদী ভাঙনের হাত থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করার জন্য সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শাখা কর্মকর্তা ওবাইদুল হক জানান, তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বেশ কয়েকটি স্থানে তীব্র ভাঙন কবলিত এলাকা শনাক্ত করেছেন। এসব স্থানে স্থায়ী ভাঙন রোধের জন্য একটি নদী তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা (ডিপিপি) তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, তবে এর জন্য একটি বড় বাজেটের প্রয়োজন হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানিয়েছেন, তারা ভাঙন কবলিত স্থানগুলো একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রায় ২৩৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের জন্য অধিদপ্তরে একটি চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী সমাধান আনা সম্ভব হবে।
#শাল্লা #কালনীনদী #ভাঙন