খুলনা মেডিকেল কলেজে উধাও হওয়া হাজিরা মেশিন উদ্ধার: তদন্ত কমিটি গঠন

খুলনা মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবন থেকে উধাও হয়ে যাওয়া বায়োমেট্রিক ফেস ডিটেকশন যন্ত্রটি (হাজিরা মেশিন) অবশেষে অফিস সহকারীর কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা তদন্তে কর্তৃপক্ষ একটি ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কলেজ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, গত রবিবার বিকেলে প্রশাসনিক ভবনের সংলগ্ন একটি কক্ষ থেকে বায়োমেট্রিক ফেস ডিটেকশন যন্ত্রটি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছিল।
ঘটনার পরদিন সোমবার, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। এর মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে, সকাল ১১টার দিকে ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত অফিস সহায়ক কাওসার আলীর কক্ষ থেকে বায়োমেট্রিক যন্ত্রটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. গোলাম মাসুদ নিশ্চিত করেছেন যে, শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পর পুলিশের একটি দল খুলনা মেডিকেল কলেজে গিয়েছিল। তবে, কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কনসালট্যান্ট (ইএনটি) ডা. আবু জাফর মো. সালেহ পলাশ এই প্রসঙ্গে বলেন, হাজিরা মেশিন সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করেছিল। কিন্তু পরে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য পুলিশকে জানানো হয়। ফলশ্রুতিতে, একাডেমিক সভায় এই বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
#খুলনামেডিকেল #হাজিরামেশিন #তদন্তকমিটি