National
৪ মার্চ, ২০২৬
কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী: শতকোটি টাকার প্রকল্প ব্যর্থ, দখল ও দূষণে মৃতপ্রায়

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নরসুন্দা নদী বর্তমানে দখল ও দূষণের মহোৎসবে মৃতপ্রায়। একসময়কার খরস্রোতা এই নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে, যা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ময়লার ভাগাড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
ব্যর্থ ১১০ কোটি টাকার প্রকল্প:
- ২০১২ সালে নরসুন্দা নদী রক্ষায় ১১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
- হোসেনপুর থেকে নীলগঞ্জ পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার পুনঃখনন ও পুনর্বাসনের কাজ করা হলেও নদী তার নাব্যতা ফিরে পায়নি।
- ২০১৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও নদীর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
নদীর বর্তমান অবস্থা:
- নদীর দুই পাশে চলছে ব্যাপক দখলদারিত্ব।
- শহরের বড় বাজার, কাচারি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের সব ময়লা-আবর্জনা ও পশুর বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
- ১৯৮০ সালে হোসেনপুরের কাওনায় বাঁধ দেওয়ার পর থেকেই নদীটি মৃতপ্রায়।
স্থানীয়দের দাবি ও পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ:
- স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত নদী দখলমুক্ত করে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
- বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল কাওনার বাঁধ অপসারণ, নদীর সীমানা নির্ধারণ এবং দ্রুত পুনঃখননের মাধ্যমে নদীকে বাঁচাতে না পারলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
- কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, নরসুন্দা নদী পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে একটি সমীক্ষা প্রকল্প চলমান রয়েছে।
- কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাজহারুল ইসলাম নরসুন্দা নদীর পানিপ্রবাহ ও দখলদারদের উচ্ছেদে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
শতকোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হলেও নরসুন্দা নদী তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পায়নি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নদীটি সম্পূর্ণরূপে বিলীন হওয়ার পথে।