কুমিল্লায় প্রবাসী পরিবারের জমি দখল: সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামে এক প্রবাসী পরিবারের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন প্রতিবেশী মৃত নুরুল ইসলাম ওরফে লেতা মিয়ার পাঁচ ছেলে, যাদের মধ্যে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে যে, অভিযুক্তরা সামাজিক বিচার, থানা ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলে রেখেছেন এবং প্রবাসী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও প্রভাব খাটিয়ে চাপে রাখছেন।
ভুক্তভোগী মো. সহিদুল ইসলাম জানান, তারা প্রবাসে থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা ধীরে ধীরে তাদের জমির একাংশ দখল করে সেখানে ঘর, টয়লেট ও টিউবওয়েল স্থাপন করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে তারা প্রথমে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিযুক্তরা কোনো সমাধান মানেননি। পরবর্তীতে সরকারি আমিন দিয়ে জমি মাপজোক করে সীমানা নির্ধারণ করা হলেও অভিযুক্তরা খুঁটি উপড়ে ফেলেন এবং বাদীপক্ষকে ভয়ভীতি দেখান।
সহিদুল ইসলাম সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে জমিটি তাদের বৈধ মালিকানাধীন বসতভিটা। তবে তদন্ত প্রক্রিয়ার মাঝেই অভিযুক্তদের একজন, যিনি পুলিশ বিভাগের উপ-পরিদর্শক পদে কর্মরত মো. মোজাহিদুল ইসলাম, প্রভাব খাটিয়ে মামলার কার্যক্রমে বাধা দেন এবং সামাজিক সমাধানের কথা বলে তদন্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
সদর দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক খাজু মিয়া আমার দেশকে জানান, তারা জমি সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্তে দেখা গেছে জায়গাটি বাদীপক্ষের বসতভিটা। বর্তমানে সেখানে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুর রব ও তার পরিবার বসবাস করছেন। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত পক্ষ জায়গাটি কিনে নিতে চায়, কিন্তু মূল্য নির্ধারণ ও সমঝোতার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। এটি একটি দেওয়ানি মামলা এবং তারা সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন। সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তারা কারও জমি দখল করেননি এবং সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছিল। তার মতে, বাদীপক্ষ মামলা করে তাদের হয়রানি করছে এবং সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাদের সম্মানহানি করার জন্যই এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা মনে করেন, প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।