লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক: মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া এক জাতীয় বাণিজ্যপথ

উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি এখন একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো ৮৪টি বিপজ্জনক বাঁক এবং ১১টি রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং। সংকীর্ণ রাস্তা, ঘন ঘন রেলক্রসিং এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এখানে প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।
গত দেড় বছরে (জানুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) এই সড়কে ৭০টির বেশি দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ২৭টি মামলাই দায়ের হয়েছে এই সময়ে। সম্প্রতি পাটগ্রাম উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এনজিওকর্মী শরিফুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়েছেন।
ঝুঁকির মূল কারণ:
- ত্রুটিপূর্ণ নকশা: জাতীয় মান অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ১০.৩ মিটার হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মাত্র ৫.৫ মিটার। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার যানবাহন, যার বড় অংশই ভারী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস, এই সরু সড়কে চলাচল করে।
- অতিরিক্ত বাঁক ও রেলক্রসিং: ৮৪টি বাঁক ও ১১টি রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং দেশের অন্য কোনো মহাসড়কে এত ঘনভাবে নেই। চারটি ট্রেন চলাচলের কারণে দিনে অন্তত আটবার যান চলাচল বন্ধ থাকে, যা দীর্ঘ যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
বুড়িমারী স্থলবন্দরকে দেশের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যসড়কটির বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে, যা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, যেমন লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক, স্বীকার করেছেন যে সড়কটির নকশা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রকল্প গ্রহণ ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মহাসড়কটিকে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা, বিপজ্জনক বাঁকগুলো কমানো, আধুনিক রেলক্রসিং স্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
#লালমনিরহাট #বুড়িমারী #সড়কদুর্ঘটনা #মৃত্যুফাঁদ #বাণিজ্যপথ