Chattogram
২০ মার্চ, ২০২৬

লোহাগাড়ায় সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় ও পাহাড় কাটার মহোৎসব: বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ

লোহাগাড়ায় সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় ও পাহাড় কাটার মহোৎসব: বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিট এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ১০০টিরও বেশি পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি, গাছ কেটে বন শূন্য করা এবং অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। বন বিভাগ এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেও মাঠ পর্যায়ে এর চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাতগড় বিটের অধীনে ইসহাক মিয়া সড়কসংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ পাশ, রাজারঘোনা, নলবনিয়া, দক্ষিণ সাতগড় বড় ঘোনা এবং চুনতী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান পাড়া চুনতী সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হারে পাহাড় কাটা, মাটি বিক্রি, বাড়ি নির্মাণ ও অবৈধভাবে গাছ কেটে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি সাতগড় বিট অফিসের পাশেই প্রায় ১০টি মাছের প্রজেক্ট তৈরি করে মাছ চাষ করছে অবৈধ দখলদাররা।

এ বিষয়ে তথ্য জানতে চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে সাতগড় বিট কর্মকর্তা মহসিন একজন সাংবাদিককে ফোন করে ঈদ খরচের প্রস্তাব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সমঝোতার চেষ্টা করেন।

বনভূমি উজাড় ও গভীর বনাঞ্চলে বাসস্থান তৈরির কারণে তীব্র খাদ্য সংকটে বন্যহাতিসহ অন্যান্য প্রাণী লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে কৃষকের ফসল ও ঘর-বাড়ি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। বন ও বন্যপ্রাণী প্রেমীরা সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন ও বিট কর্মকর্তা মহসিন ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করায় বনাঞ্চল দখল বন্ধ হচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বন বিভাগ লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা ও মামলা দিয়ে দায় এড়ায়, অন্যদিকে অবৈধ দখলদাররা তাদের দখল স্থায়ী করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে।

পরিবেশ কর্মী সানজিদা রহমান বলেন, বন সম্পদ রক্ষায় সকল প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মারাত্মক অভাব রয়েছে। বন বিভাগের উচিত সমস্যাগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড়, টিলা, গাছ কাটা ও স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি অবৈধ স্থাপনাগুলোর ঠিকানা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং সাংবাদিককে টাকা দিয়ে সমঝোতার চেষ্টার বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেন।

#লোহাগাড়া #বনউজাড় #পাহাড়কাটা #বনবিভাগদুর্নীতি #বন্যপ্রাণীসংকট