নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ; শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বজায় রাখার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়াতে নিউজিল্যান্ড তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন এই আগ্রহের কথা জানান।
আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার জন্য বিদ্যমান আঞ্চলিক কাঠামোর কার্যকর ব্যবহার এবং একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের সম্ভাব্যতাও খতিয়ে দেখা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির একটি বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, তাই এই খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী আরও জানান যে, বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করুক বা না করুক, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকার শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে।
বৈঠকে ডেভিড পাইন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ কেবল রপ্তানির জন্যই নয়, আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণের ক্ষেত্রেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে উভয় দেশ পারস্পরিকভাবে আরও বেশি সুবিধা লাভ করতে পারবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও যাতে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে নিউজিল্যান্ড বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিউজিল্যান্ডের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বস্ত, উচ্চমানসম্পন্ন, নিরাপদ এবং জিএমও-মুক্ত হিসেবে সুপরিচিত। নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য কাঠামো প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।
#বাংলাদেশ #নিউজিল্যান্ড #বাণিজ্য #বিনিয়োগ #শুল্কমুক্তসুবিধা #উন্নয়নশীলদেশ