National
১৭ মে, ২০২৬

পরিবেশ উপদেষ্টাদের সমালোচনা: ঢাকা শহরকে ১৮ বছর পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

পরিবেশ উপদেষ্টাদের সমালোচনা: ঢাকা শহরকে ১৮ বছর পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

পরিবেশ নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা। তবে বাস্তবতার নিরিখে, তাদের কর্মকাণ্ড পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই ১৮ মাসের শাসনামলে ঢাকা শহরকে ১৮ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আয়োজিত “সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ণ” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মো. আবদুস সালাম বলেন, অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা এবং কার্যকর উদ্যোগের অভাবের কারণে রাজধানী ঢাকায় ট্রাফিক জট, হকার সংকট, বায়ুদূষণ এবং নাগরিক ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেবল বক্তব্য প্রদানই যথেষ্ট নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।

তিনি স্বীকার করেন যে, পরিকল্পনা করা সহজ হলেও তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠিন কাজকেও সহজভাবে গ্রহণ করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন যে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে কাজ করলে ভবিষ্যতে দেশ আরও বড় সংকটের সম্মুখীন হবে। তাই তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সমস্যা কেবল সিটি করপোরেশনের একার কারণে সৃষ্টি হয়নি। বরং নাগরিকদের অসচেতন আচরণও এর পেছনে একটি বড় কারণ। তিনি মনে করেন, আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতাম, তবে এই সমস্যাগুলোর অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে ১৫ দিনব্যাপী একটি জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে বলে তিনি জানান। এই জরিপের মাধ্যমে মশার লার্ভা কোথায় জন্মাচ্ছে বা জন্মানোর সম্ভাবনা রয়েছে, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, সম্প্রতি একটি পশু হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে ভাঙা টেলিভিশনের কাভার এবং ভাঙা পাত্রে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, নিজেদের বাড়িতে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটিয়ে পরে সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

তিনি বলেন, জনগণ যদি সচেতন হয়, তবে দুই বছরের মধ্যেই ঢাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু জনগণ সচেতন না হলে, ২৫ বছরেও কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির বিষয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, সমন্বয়ের অভাবে একই রাস্তা বারবার খনন করতে হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য ধানমন্ডিতে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যেখানে টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ক্যাবল লাইন একসাথে মাটির নিচে স্থাপন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প সারা ঢাকা শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার খাল ও জলপথগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে একটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে। অন্তত ১৫ থেকে ২০টি নিষ্কাশন পথ দিয়ে পানি শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীতে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। ফলস্বরূপ, নিউমার্কেটের মতো নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

#পরিবেশ #ঢাকা #যানজট #বায়ুদূষণ #নাগরিকসমস্যা