শ্রীমঙ্গলে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত: পলি সংকটে ব্যাহত সরবরাহ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের অধীনে খাবার সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কর্তৃক অনুমোদিত বিশেষ প্যাকেজিং পলির অভাব দেখা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন কলা, ডিম এবং বনরুটি এই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পরিবেশন করা হয়। তবে, অনুমোদিত প্যাকেজিং পলি সহজলভ্য না হওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
বুধবার, ইসলাম ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর মো. শফিকুল ইসলাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার জন্য বিএসটিআই অনুমোদিত বিশেষ পলি ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক। বর্তমানে এই পলির সংকট দেখা দেওয়ায় প্যাকেজিং এবং সরবরাহ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই কারণে, আগামী দুই থেকে তিন দিন খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে জানিয়েছে যে বিএসটিআই অনুমোদিত পলি পাওয়া যাচ্ছে না, তাই আগামী কয়েকদিন খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আলোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
তিনি আরও যোগ করেন যে, সম্প্রতি উপজেলার টিকরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের মান নিয়ে একটি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে, শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি তদন্ত দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন ঢাকায় প্রেরণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বনরুটির প্যাকেজিং বিএসটিআই অনুমোদিত নয় বলে উল্লেখ থাকতে পারে।
আ. ছত্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণেশ লাল কৈরী জানান, শিক্ষা অফিস থেকে তাদের জানানো হয়েছে যে শনিবার থেকে পরবর্তী তিন থেকে চার দিন স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
ইসলাম ট্রেডার্সের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা খাইরুল বাশার ব্যাখ্যা করেন যে, যে পলির নমুনা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেটির চাহিদা বর্তমানে সারা দেশে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল তাদের প্রতিষ্ঠানেরই প্রতি মাসে তিন থেকে চার টন পলি প্রয়োজন হয়। এর ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে এবং দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও জানান যে, তাদের প্রতিষ্ঠান শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বাহুবল এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলায় খাবার সরবরাহ করে থাকে। কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল এই দুই উপজেলায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, কোথাও খাবারের মানে সমস্যা দেখা দিলে তা পরিবর্তনের নির্দেশনা বিদ্যমান রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার ডিম সরবরাহ করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটি বা দুটি ডিম নষ্ট পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, এই ধরনের ঘটনা নিয়মিত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। #স্কুলফিডিং #শ্রীমঙ্গল #শিক্ষা #পলি #বিএসটিআই