National
৪ মার্চ, ২০২৬

রাজধানীতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ: ১২ ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা, ডিএসসিসি’র ৪ স্তরের তদারকি

রাজধানীতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ: ১২ ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা, ডিএসসিসি’র ৪ স্তরের তদারকি

রাজধানীতে মশার উপদ্রব আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা নগরবাসীর জন্য ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই বাসা-বাড়ি, সড়ক ও পার্কসহ সবখানেই মশার দাপট লক্ষণীয়। কয়েল, অ্যারোসল বা মশারিও কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি দিতে পারছে না, ফলে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, অপরিচ্ছন্ন ড্রেন, খাল এবং নির্মাণস্থলের বদ্ধ পানি মশার প্রধান প্রজননস্থল। অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থবির পানিতে লার্ভা জন্মানোর কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। নিয়মিত ফগিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে মশার উপদ্রব কমছে না, বরং অনেক এলাকায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পদক্ষেপ:

  • ১২টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা: ডিএসসিসি ১০টি অঞ্চলের ১২টি ওয়ার্ডকে (৫, ১৪, ১৬, ১৮, ২২, ৩০, ৩৮, ৫৬, ৬০, ৬৪, ৬৫ ও ৭৩ নম্বর) মশার উপদ্রবের জন্য 'অধিক ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া ১৯টি ওয়ার্ড মাঝারি এবং ২১টি ওয়ার্ড সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ।
  • চার স্তরের তদারকি: মশা নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে প্রশাসক পর্যায় পর্যন্ত চার স্তরের তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সাতজন কর্মকর্তাকে মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • মোবাইল কোর্ট ও ক্র্যাশ প্রোগ্রাম: দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও 'ক্র্যাশ প্রোগ্রাম' শুরু হয়েছে।
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি: স্থানীয় ইমামদের সম্পৃক্ত করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা: প্রশাসক মো. আবদুস সালাম সতর্ক করে বলেছেন, নাগরিকরা নিজ নিজ বাসা ও আশপাশের মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

সরেজমিনে বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, শান্তিনগর, মালিবাগ ও শাহবাগ এলাকায় খাল ও ড্রেনে মশার উপদ্রব চরমে দেখা গেছে। ময়লার স্তূপ ও ড্রেনেজ সংস্কারের কারণে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে। বনশ্রীর বাসিন্দা জয় আহমদ এবং মালিবাগের জীবন আহমদ মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গু ঝুঁকির কারণে শিশুদের নিয়ে তাদের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তারা সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।