সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে খাসিয়ামারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: পরিবেশ ও জনজীবন বিপন্ন

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খরস্রোতা খাসিয়ামারা নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে নদীর পাড়ে ও সড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ বালু ডাম্পিং করা হচ্ছে, যা স্থানীয় বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাজার ও সড়ককে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ভোগান্তি:
- শত শত ট্রাক ও ট্রাক্টরের বিকট শব্দে রাতে ঘুমাতে পারেন না গ্রামবাসী।
- ধুলোবালিতে মারাত্মক দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি (সর্দি-কাশি) বাড়ছে, স্কুল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
- দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে মাটগাঁও ও ভাঙাপাড়া গ্রাম ভাঙনের মুখে পড়েছে।
- প্রতিবাদ করলে মামলার হুমকি দেওয়া হয় এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
- কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালু পাচার করা হচ্ছে।
ভাঙাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও হারুন মিয়া প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা জানান, তহসিলদার অভিযান চালালেও ড্রেজার বা ডাম্পিং করা বালু জব্দ করা হয়নি।
প্রশাসনের বক্তব্য:
ইজারাদার হারুন রশিদ অবশ্য দাবি করেছেন যে, বৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন ও ডাম্পিং করা হচ্ছে এবং রয়্যালটির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা বালু নিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তহসিলদারকে পাঠানো হয়েছিল এবং কয়েকটি ড্রেজার বিনষ্ট করা হয়েছে। তিনি রিমোট এরিয়া হওয়ায় অভিযান পরিচালনায় সমস্যার কথা উল্লেখ করে চক্রের মূল হোতাকে খোঁজার চেষ্টা করছেন এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সজাগ রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছেন এবং ইউএনওকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
#অবৈধবালুউত্তোলন #খাসিয়ামারানদী #দোয়ারাবাজার #পরিবেশদূষণ #নদীভাঙন