Rangpur
২৮ ফেব, ২০২৬

ভারতের বাঁধের বলি পঞ্চগড়ের ৩৪ সীমান্ত নদী: জীববৈচিত্র্য ও কৃষিতে বিপর্যয়

ভারতের বাঁধের বলি পঞ্চগড়ের ৩৪ সীমান্ত নদী: জীববৈচিত্র্য ও কৃষিতে বিপর্যয়

ভারতের একতরফা বাঁধ নির্মাণের কারণে পঞ্চগড় জেলার ছোটবড় ৩৪টি সীমান্ত নদনদী তাদের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং কৃষিক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

এই বিপর্যয়ের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হলো পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘যমুনা’ নদী। ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা যমুনা নয়, এই নদীটি মাত্র আট কিলোমিটার দীর্ঘ এবং পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী এর প্রস্থ ৪৮ মিটার। স্থানীয়দের মতে, কয়েকশ’ বছরের পুরোনো এই নদীটি একসময় সারা বছরই উজানের পানি প্রবাহে ভরপুর থাকত। বর্ষায় দু’কূল ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করত এবং শুষ্ক মৌসুমে এর পানি ব্যবহার করে কৃষকরা রবিশস্য আবাদ করত। নদীর দু’পাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবিকাও এই নদীর ওপর নির্ভরশীল ছিল।

তবে, বর্তমানে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। এখন শুধু বর্ষাকালেই এটিকে নদী বলে মনে হয়; বাকি সময়টা সরু খালের মতো দেখায়। নদীর দু’পাশ ভেঙে প্রস্থ কমে গেছে এবং শুষ্ক মৌসুমে ধু-ধু বালু ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। নদী পাড়ের কৃষকরা এখন নদীর মাঝখানে সরু ক্যানেলের মতো জায়গা রেখে বাকি জমিতে বোরো ধান চাষ করেন। যদিও এতে বাড়তি সেচের প্রয়োজন হয় না, তবে বর্ষায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেলে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা গরিব কৃষকদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়।

নারায়নপুর দেউনিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মো. ইয়াকুব আলী জানান, ছোটবেলা থেকে তিনি এই নদীতেই বড় হয়েছেন। আগে বর্ষা ছাড়া অন্য সময়েও নদীতে যথেষ্ট পানি থাকত এবং গর্তগুলোতে দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। তিনি নিজেও একসময় নদীতে বোরো ধান আবাদ করতেন, এখন তার বড় ভাই ও ভাইস্তারা করেন। তিনি মনে করেন, নদীটি খনন করা হলে এর প্রস্থ বাড়বে এবং জলাধার সৃষ্টি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে রবিশস্য আবাদ সহজ হবে।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মনও স্বীকার করেন যে, পঞ্চগড়ের যমুনা একটি ছোট নদী যা স্থানীয়ভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্ষাকাল ছাড়া প্রায় পানি শূন্য থাকে। তিনি বলেন, নদীটি খনন করা গেলে এখানে জলাধারের সৃষ্টি হবে, যার পানি দিয়ে কৃষকরা শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন ফসল আবাদ করতে পারবে।