চট্টগ্রামের বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকরা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সাড়ে আট শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি করেছে, যা আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা (Bangladesh Inland Container Depots Association) সাড়ে আট শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি করেছে। যদিও সংগঠনটি এটিকে 'ফুয়েল সারচার্জ' হিসেবে উল্লেখ করেছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে বিজিএমইএ (Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association), এই একতরফা সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা না করে এবং ট্যারিফ নির্ধারণ কমিটির অনুমোদন ছাড়াই এই মাশুল বৃদ্ধি জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত অংশ হিসেবে কাজ করা ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো রপ্তানি পণ্যের শতভাগ এবং ৬৪ ক্যাটাগরির আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করে। এই ডিপোগুলো দৈনিক গড়ে ৬৫-৭০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল ব্যবহার করে। জ্বালানি তেলের দাম লিটারে প্রায় ২০ টাকা বাড়ায় ডিপো পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিকডার সেক্রেটারি রুহুল আমিন শিকদার দাবি করেন, মাশুল বাড়ানো হয়নি, বরং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করতে তারা বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, ট্যারিফ কমিটি কার্যকর না থাকায় এবং তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় অপারেশন অব্যাহত রাখার স্বার্থে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে, অফডক কর্তৃপক্ষকে এই বর্ধিত ব্যয় সামলাতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে, বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী উল্লেখ করেছেন যে, বৈশ্বিক সংকটে এমনিতেই ব্যবসায়ীরা টিকে থাকার লড়াই করছে। সরকার দুদিন আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম দেড় মাস আগেই বৃদ্ধি পেয়েছিল। দেশের অন্য কোনো সেক্টর এই অজুহাতে মাশুল বৃদ্ধি করেনি। এই অন্যায্য মাশুল বৃদ্ধি সামগ্রিক বাণিজ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। #চট্টগ্রাম #কনটেইনার_ডিপো #জ্বালানি_তেল #ব্যবসায়িক_সিদ্ধান্ত #অর্থনীতি