দুর্গম চরে ভয়াবহ নির্যাতন: সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে এক নারীর পৈশাচিক ধর্ষণ ও উচ্ছেদের লোমহর্ষক কাহিনী

ভোলা সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম চর মোজাম্মেলে নীরবে এক পরিবারের উপর ঘটে গেছে পৈশাচিক নির্যাতন। সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ের দোসর বলে পরিচিত, তারা এক নারীকে তার দশ বছর বয়সী মেয়েকে আটকে রেখে দিনের পর দিন পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার বৃদ্ধা মাকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। স্বামী সুফিয়ান প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে পিটিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং দেড় বছরের শিশু সুলতানাও এই নির্মম নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। সন্ত্রাসী চক্রটি শিশু সুলতানার মাথায় দা দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে সে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। তারা পরিবারের বসতঘরও ভেঙে দেয় এবং লুটপাট চালায়। পরে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে নির্যাতিতা নারী তার বাবার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন।
ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত নীরব ফরাজী, যিনি চর মোজাম্মেলের একজন ব্লক লিডার, তার ভাই দুলাল ফরাজীর পিস্তল হাতে একটি ছবি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যা পুরো উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটি অবৈধ অস্ত্রের জোরে মেঘনা নদী ও চর মোজাম্মেল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। তাদের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র বাহিনী চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে আসছিল। এই চক্রের নির্মমতার শিকার এক নারী সম্প্রতি তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। ২০২১ সালে তাকে, তার দুই কন্যা ও বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। টানা চার দিন আটকে রেখে নীরব ও তার সহযোগীরা তাকে এবং তার শিশু কন্যাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধারের পর প্রভাবশালীদের চাপে মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় ২০২২ সালে তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও গবাদিপশু লুট করে তাকে সপরিবারে চর থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরায় সাংবাদিক সাদির হোসেন ডিজিটাল সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন।
#চরনির্যাতন #নারীধর্ষণ #ভোলা #তজুমদ্দিন #সন্ত্রাস #মানবাধিকার