ফেনীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বেপরোয়া হাঙ্গামা: জানুন কি হচ্ছে এখানে

ফেনীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছেই। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। দখলদারি, চাঁদাবাজি, কৃষিজমি নিয়ে মাটি ব্যবসা, মাদক ব্যবসা – এমন বহুমুখী অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে, যা দলের ভেতরেই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। হত্যা, সংঘর্ষ, হামলা, এমনকি অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটছে প্রায় নিয়মিতভাবে, যার কারণে স্থানীয় প্রশাসন রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। সবচেয়ে recentes ঘটনাগুলোর মধ্যে গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর গ্রামে শর্শদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দিন শিবলুর বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। অভিযোগ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আরফান, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মীর মোশাররফ হোসেন রিয়াদ, যুবদল নেতা মানিক অপু ও তাদের সহযোগীরা প্রথমে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এবং পরে শিবলুর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন লাগিয়ে দেয়।
আরফান সাহেবের আট ভাইपैकी দুজন, মোরশেদ ও বাপ্পি, বেশ কিছুদিন আগে মহিপালে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রহত্যা মামলার আসামি ছিলেন এবং বন্দুকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আরফান স্বেচ্ছাসেবক দলের পদে আছেন, কিন্তু বিদেশে থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
অন্যদিকে, দাগনভূঞায় এক প্রবাসীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতা আবু তাহের কালুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী তিনি ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্যের হটলাইনে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া, ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের খাইয়ারা বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করছিলেন আবুল বাশার নামে একজন। স্থানীয় যুবদল নেতা সালাউদ্দিন এর প্রতিবাদ করলে দখলবাজের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বাচ্চুর সাথে, যার ফলস্বরূপ সালাউদ্দিনের মোটরসাইকেল queimado হয়।
ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক নোমানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার এবং রামপুর নাসির মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহাদের নামে মাটি কাটা ও মাদক বিক্রির অডিও কথোপকথন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনার জেরে নোমানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ইফতেখার নিজেকে ইয়াবা বিক্রেতা দাবি করলেও, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় দলের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনগণ তাকে ‘মাদক কারবারি ও মাটিখাদক’ আখ্যা দিয়ে মানববন্ধন করেছে।
নোমানকে বহিষ্কারের পর ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছে মাহমুদুল হাসানকে। তবে তার বিরুদ্ধেও মাটি ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সদর উপজেলা মৎস্যজীবীদলের আহ্বায়ক আবু ইউছুফ পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বগৈড় গ্রামে অন্যের পুকুর থেকে মাছ লুট করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাঁচগাছিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় মোহাম্মদ আজাদের অপহরণ করা হয়েছে।
#বিএনপি #ফেনী #সংঘাত #রাজনৈতিকঅস্থিরতা