ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের উপর প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানকে নিশ্চিহ্নের হুমকির মধ্যেই ইসরাইলিরা ঘুমিয়ে পড়েছিল। কিন্তু মাঝরাতে তারা জানতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারের সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো ১০ দফা প্রস্তাবের প্রচার শুরু করে, যার ভিত্তিতে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে ইরান দাবি করে।
এই ১০ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- উভয় পক্ষের মধ্যে বৈরিতার সম্পূর্ণ অবসান।
- ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা।
- ইরানের মিত্রদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
- হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী নৌযান থেকে ট্রানজিট ফি আদায়।
যদি এই ১০ দফার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু একাই ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে উৎসাহিত করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের এই ১০ দফা মেনে নেয়, তবে ইরান পূর্বের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হবে। এটি নেতানিয়াহুর ২৮ ফেব্রুয়ারির আগ্রাসন পরিকল্পনার সাথে সাংঘর্ষিক। যদিও প্রাথমিকভাবে ইরানের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পতন ঘটানো লক্ষ্য ছিল, কিন্তু ইরানের প্রতিরোধের মুখে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।
নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষমতাসীনদের পতন না হলেও তেহরানকে দুর্বল করে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় শক্তি হিসেবে উত্থান ঠেকাতে চেয়েছিলেন। তিনি ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেও আগ্রহী ছিলেন, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমানে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করছে, তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করতে পারে। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নেতানিয়াহুর জন্য একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।
৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নেতানিয়াহু ইরানকে ইসরাইল ও পশ্চিমা আধিপত্যের জন্য প্রধান শত্রু হিসেবে প্রচার করে আসছেন। তার এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তবে তা তার দীর্ঘদিনের প্রচারণার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
#ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #ইসরায়েল #নেতানিয়াহু #শান্তিচুক্তি