খেজুর সিন্ডিকেটের খপ্পরে: শুল্ক কমালেও রমজানে চড়ছে দাম!

রমজান শুরুর পর এক দফা বেড়েছে খেজুরের দাম। শুল্কহার কমানো সত্ত্বেও মানভেদে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে গত বছরের মতো এবারও শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হলেও এর কোনো সুফল খুচরা বাজারে দেখা যায়নি। উল্টো সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে খেজুরের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর সরকার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য খেজুরের কোনো দাম নির্ধারণ করে দেয়নি। ফলে আমদানিকারক থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন। দেশের মোট চাহিদার পর্যাপ্ত মজুত (৮০ হাজার মেট্রিক টন) থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমের অজুহাত দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাস্টমসে প্রদর্শিত আমদানিমূল্য, শুল্ক এবং পরিবহন খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি খেজুরের গড় মূল্য সর্বোচ্চ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে দাম অনেক বেশি। যেমন:
- দাবাস খেজুর: রমজানের আগে ৪৯০-৫০০ টাকা, এখন ৬০০ টাকার বেশি।
- বড়ই খেজুর: রমজানের শুরুতে ৪৮০-৫০০ টাকা, এখন ৫৪০-৫৬০ টাকা।
- কালমি খেজুর: ৭০০ টাকা, এখন ৭৬০ টাকার বেশি।
- অন্যান্য জনপ্রিয় জাত যেমন সুক্কারি, মাবরুম, মরিয়ম ও মেডজুল খেজুরের দামও কেজিতে ১০০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে।
২৫টি প্রতিষ্ঠান দেশের ৬০-৭০ শতাংশ খেজুর আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে ভোক্তারা তাদের হাতে জিম্মি। খুচরা ব্যবসায়ীরা আমদানিকারকদের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলা হয়েছে। রমজানে খেজুরের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবাধে দাম বাড়িয়ে চলছে, এতে সাধারণ মানুষ অসহায়।