National
৪ মার্চ, ২০২৬

কিশোরগঞ্জে নিখোঁজ ৪ মাসের শিশুর লাশ উদ্ধার: চাচির স্বীকারোক্তি

কিশোরগঞ্জে নিখোঁজ ৪ মাসের শিশুর লাশ উদ্ধার: চাচির স্বীকারোক্তি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজ হওয়ার ২৮ দিন পর ৪ মাস বয়সী শিশু আশরাফুলের লাশ বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুর আপন চাচি রুপা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক চাচি রুপা আক্তার (২০) শিশু আশরাফুলকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

হত্যার কারণ হিসেবে রুপা আক্তার যা জানিয়েছেন:

  • আট বছর আগে আশরাফুলের ছোট চাচা আবদুল হাকিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।
  • আট মাস আগে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে রুপা ও তার মেয়ের ভরণপোষণ দেন না।
  • দাদা-দাদিও তার মেয়ের প্রতি কম আদর যত্ন করেন বলে তার অভিযোগ।
  • স্বামী বড় ভাইয়ের সন্তানদের বেশি আদর করেন, যা রুপার মনে জিদ, কষ্ট ও হিংসা বাড়িয়ে তোলে।

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুযোগ বুঝে রুপা আক্তার ঘুমন্ত শিশু আশরাফুলকে দোলনা থেকে তুলে বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি ঢাকনা খুলে তাতে ফেলে দেন এবং পরে ঢাকনা লাগিয়ে দেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শিশুটির মা তাকে দুধ খাইয়ে পাতা ঝাড়ু দিতে গেলে শিশুটি দোলনায় ঘুমিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে শিশুটিকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। ২৮ দিন পর বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা লাশটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে চাচিকে গ্রেপ্তার করে।