মাত্র তিন মাসেই ময়লার ভাগাড়, কেন উদাসীন কর্তৃপক্ষ?

জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি রক্ষার জন্য এবং চট্টগ্রামের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে নির্মিত নগরীর নিউ মার্কেটের ‘৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আজ করুণ পরিণতির শিকার। স্তম্ভটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, এর চারপাশ নোংরা আবর্জনা আর আগাছায় ঢাকা। রাতে এখানে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আড্ডা জমে উঠেছে। শুধু তাই নয়, স্মৃতিস্তম্ভের आसपासের এলাকাটি পার্কিংয়ের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার কারণে এখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্মৃতিস্তম্ভের অযত্ন: একটি হৃদয়বিদারক চিত্র
স্মৃতিস্তম্ভের এমন অযত্ন-অবহেলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বন্দরনগরীর জুলাইযোদ্ধারা। তারা বলছেন, এটি জুলাই বিপ্লবের প্রতি সরকারের চরম অবজ্ঞা ও অসম্মান। স্তম্ভটি নগরীর নিউ মার্কেটসংলগ্ন পুলিশ বক্সের পেছনে সীমানা প্রাচীরের ভেতরে রেলের জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে ‘দেশটা করো বাপ দাদার না’, ‘শুনো মহাজন, আমরা অনেকজন’ – বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্লোগানগুলো খোদাই করা আছে। কিন্তু এই স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশের পরিবেশ আজ তা বলে আর নেই।
এখানে গোলাকার লোহার জালি দিয়ে তৈরি স্তম্ভের চারপাশে স্তূপ করে প্লাস্টিক, নষ্ট কাপড়, হোটেলের আবর্জনা এবং নানা ধরনের আগাছা, ইট-পাথরের কণা দেখা যায়। স্তম্ভটির কাছে যাওয়ার পথও হারিয়ে গেছে; আগাছা আর আবর্জনার স্তূপ পেরিয়েই যেতে হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, স্মৃতিস্তম্ভের পাশের জায়গাটি ট্রাকস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গাড়ির তীব্র শব্দ ও ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন থাকে। ব্যবসায়ীরা, শ্রমিকরা এবং आसपासের লোকজন এখানে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা, এমনকি পচা-বাসি খাবারও ফেলে যান। গরু, ছাগল অবাধে ঘুরে বেড়ায়, এবং রাতে কেউ কেউ মলমূত্র ত্যাগ করতেও দ্বিধা করেন না। রেলস্টেশনের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, তিনি প্রথমে জানতেনই না এখানে ‘৩৬ জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই এখানে অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম বিভাগের মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজা বলেন, “শহরে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের প্রধান দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। কিন্তু এই স্থানটির প্রতি তাদের নজরদারির অভাব রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সংস্থাগুলো একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে, এবং রেলওয়ে তাদের জায়গায় স্মৃতিস্তম্ভটি রাখতে রাজি নয়। জেলা প্রশাসনসহ অন্য কোনো সংস্থারও এখানে কোনো নজরদারি নেই।”
লিজা জানান, “একটি জনমানবশূন্য প্রাচীরের ভেতরেই এই স্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে, যা এটিকে আরও বেশি অরক্ষিত করে তুলেছে।”
জুলাই বিপ্লবের প্রতি সরকারের এই অবজ্ঞা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা। তারা মনে করেন, এটি কেবল একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং দেশের মানুষের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধার অভাবকেই প্রকাশ করে।
#চট্টগ্রাম #স্মৃতিস্তম্ভ #জুলাইবিপ্লব #আবর্জনা #কর্তৃপক্ষ