National
৪ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসীদের ভোগান্তি: ফ্লাইট বাতিল, ভিসার মেয়াদ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না বা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না, ফলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।
মূল সমস্যাসমূহ:
- ফ্লাইট বাতিল: গত চারদিনে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৪৭টি এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কাতার, দুবাই, আবুধাবি, শারজা, দাম্মাম ও কুয়েতসহ ছয়টি রুটের সব ফ্লাইট ৫ মার্চ পর্যন্ত বাতিল করেছে।
- ভিসা জটিলতা: ছুটিতে দেশে আসা অনেক প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
- নিরাপত্তা শঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসীরা কাজের বাইরে বের হতে বা বাসায় থাকতেও আতঙ্কে ভুগছেন।
- আর্থিক ও মানসিক চাপ: অনিশ্চিত অপেক্ষা, অর্থকষ্ট এবং নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রবাসীরা ত্রিমুখী চাপে রয়েছেন।
সরকারের পদক্ষেপ ও সহায়তা:
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আটকে থাকা প্রবাসীদের সহায়তায় একটি চার সদস্যের কমিটি এবং ভিসা জটিলতা নিরসনে ‘বিশেষ সেল’ গঠন করেছে।
- মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রবাসীদের সংকট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিসা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অন্যান্য দেশের উদ্যোগ:
- কাতার: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা সব ধরনের ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর জন্য কোনো ফি বা আবেদন লাগবে না।
- সংযুক্ত আরব আমিরাত: ছুটিতে দেশে আটকা পড়া এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া প্রবাসীরা ফ্লাইট চালু হলে বাংলাদেশে অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস থেকে ১৫-২০ দিনের ট্রাভেল পারমিট নিতে পারবেন (পার্টনার ভিসা ব্যতীত)।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা বা তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।