পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা চাইতে গিয়ে মা-মেয়ে রক্তাক্ত, অতঃপর কারাদণ্ড

কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে এক কলেজছাত্রী ও তার মা রক্তাক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, থানার ভেতরেই তাদের আটকে রেখে এসআই ও তার সহযোগীরা মারধর করেন। এরপর ঘটনা আড়াল করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডেকে এনে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। মারধরের পর তাদের কোনো চিকিৎসা না দিয়ে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীরা হলেন— পেকুয়া সদর ইউনিয়নের রেহেনা মোস্তফা রানু (৪২) ও তার মেয়ে জুবাইদা বেগম (২১), যিনি চকরিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতির অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত বুধবার (২২ মে) দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে জুবাইদার বাবা মারা যাওয়ার পর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। জুবাইদা তার পৈতৃক সম্পত্তির অংশ চাইলে দাদার বাড়ির লোকজন তার পিতৃপরিচয় অস্বীকার করে। এ বিষয়ে আইনি সহায়তা নিতে গেলে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কুমার ঘোষ। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে পল্লব ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন, কিন্তু পরে বিপক্ষে প্রতিবেদন জমা দেন।
ভুক্তভোগী জুবাইদার খালা আমেনা বেগম জানান, ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে তার বোন ও ভাগনি থানায় গেলে এসআই পল্লব ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের মারধর করেন। এতে তারা গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী মনজিলা বেগমও একই কথা জানান এবং বলেন যে, মহিলা পুলিশ এসে তাদের মারধর করে থানার গেট পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং পরে থানার ভেতর থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে মা-মেয়েকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
তবে পেকুয়া থানা পুলিশ দাবি করেছে, মা-মেয়ে থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তাদের হামলায় নিপা মুর্শেদি, নাসরিন সুলতানা রিনা ও তছলিমা বেগম নামের তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পেকুয়ার ইউএনও মাহবুবুল আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের এক মাসের সাজা দেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মা-মেয়েকে কারাগারে আনার সময় তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে গ্রহণ না করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় এবং পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য ও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রের ভিত্তিতে তাদের কারাগারে গ্রহণ করা হয়। এসআই পল্লব কুমার ঘোষ মারধর ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল সাকিব জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।