National
২০ এপ্রি, ২০২৬

শ্রমিক সংকটে ধর্মপাশায় বোরো ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা, ফলন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

শ্রমিক সংকটে ধর্মপাশায় বোরো ধান কাটা নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা, ফলন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা

ধর্মপাশা উপজেলায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। মাঠের পাকা ধান ঝরে পড়ার উপক্রম হলেও শ্রমিক না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। ঝড়-বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৫টি হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে হাওরের পানি বেড়ে যাওয়ায় হারভেস্টার দিয়েও ধান কাটা যাচ্ছে না। এতে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে ধান কাটার দৈনিক মজুরি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ফলে ধান কাটার খরচ মেটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কায় ফসলের অর্ধেক দিয়ে শ্রমিকদের দিয়ে জমি ছেড়ে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ধান মাড়াই এবং ট্রলিতে করে হাওড় থেকে ধান আনতে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। পাইকুরাটি ইউনিয়নের কৃষক ঝনি মিয়া বলেন, ‘ধান পাকলেও শ্রমিক নেই। যারা আছে তারা বেশি মজুরি চায়। এই দামে ধান কেটে লাভ তো নেই, বরং লোকসান হবে।’ সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের কৃষক মো. রেহান মিয়া বলেন, ‘সার, বীজ ও সেচ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এখন ধান কাটার সময় এসে শ্রমিক সংকট। এ অবস্থায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

#ধর্মপাশা #বোরোধান #শ্রমিকসংকট #কৃষক #ফসলহানি #মজুরি